ব্যবহারের নিয়ম
খসড়া — আইনজীবী দেখছেন। শেষ আপডেট: ৬ নভেম্বর ২০২৬।
প্যাপেল ব্যবহার করলে এই নিয়মগুলো মেনে নিচ্ছেন বলে ধরা হয়। এখানে “আমরা” মানে প্যাপেল। নিয়মগুলো সহজ ভাষায় লিখেছি, যাতে কী করা যাবে আর কী যাবে না, তা পরিষ্কার থাকে।
প্যাপেল কী
প্যাপেল এমন একটা প্ল্যাটফর্ম, যেখানে রোগী আর তাঁদের পরিবারের অভিজ্ঞতা সবার সামনে আসে। ডাক্তার, হাসপাতাল, ক্লিনিক আর ডায়াগনস্টিক সেন্টার নিয়ে রোগীরা নিজেদের অভিজ্ঞতা জানান, যাতে অন্যরা ভেবেচিন্তে বেছে নিতে পারেন। কোনো প্রোভাইডার টাকা দিয়ে ভালো রেটিং কিনতে পারেন না।
কে রিভিউ দিতে পারেন
বয়স ১৮ বা তার বেশি হতে হবে। নিজে যে চিকিৎসা নিয়েছেন, অথবা অভিভাবক হিসেবে যে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছেন, তা নিয়ে নিজের অ্যাকাউন্ট থেকে রিভিউ দিতে পারেন। জমা দেওয়ার আগে এটা নিশ্চিত করতে হয়। কোনো প্রোভাইডার নিজের প্রোফাইলে রিভিউ দিতে পারেন না।
নাম দেখিয়ে, না বেনামে
রিভিউ লেখার শুরুতেই আপনাকে বেছে নিতে হয়: নাম দেখিয়ে দেবেন, না বেনামে। আগে থেকে কোনোটা বেছে দেওয়া থাকে না।
বেনামে দিলে কারও কাছেই আপনার নাম দেখানো হয় না, সাইন ইন করা মানুষের কাছেও না। তবে প্যাপেলের অনুমোদিত স্টাফ জানতে পারেন কে লিখেছেন, কারণ রিভিউ যাচাই আর অপব্যবহার ঠেকাতে এটা লাগে।
রিভিউ যেমন হতে হবে
- সত্য, আর নিজের দেখা অভিজ্ঞতা নিয়ে।
- অন্তত ৫০ অক্ষরের লেখা।
- গালাগাল, হুমকি বা ঘৃণা ছড়ানো কথা চলবে না।
- কারও ব্যক্তিগত তথ্য চলবে না: ফোন নম্বর, ঠিকানা, পরিচয়পত্রের নম্বর, অন্য রোগীর অসুখের কথা।
- কারও নামে মিথ্যা অভিযোগ চলবে না।
প্রমাণ দেওয়া
প্রমাণ দেওয়া আপনার ইচ্ছা। রসিদ বা প্রেসক্রিপশনের ছবি বা PDF দিলে বোঝা যায় আপনি সত্যিই সেখানে গিয়েছিলেন, তাই প্রমাণসহ রিভিউ ৩ গুণ গোনা হয়; প্রমাণ ছাড়া ১ গুণ। প্রমাণ কখনো সবার সামনে দেখানো হয় না।
শুধু নিজের কাগজ দিন, অথবা অভিভাবক হিসেবে যাঁর চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছেন তাঁর কাগজ। প্রমাণ দিলে রিভিউর প্রতিটা কথা সত্য প্রমাণ হয়ে যায় না; এটা শুধু দেখায় যে চিকিৎসা নিতে যাওয়া হয়েছিল।
রিভিউ কীভাবে দেখা হয়
- প্রকাশের আগে প্রতিটা রিভিউ আমাদের টিমের একজন মানুষ পড়েন। স্বয়ংক্রিয় যাচাই শুধু সমস্যা চিহ্নিত করে, নিজে থেকে কিছু প্রকাশ বা বাতিল করে না।
- টিম রিভিউটা প্রকাশ করতে পারে, কিছু বদলাতে বলতে পারে, বা বাতিল করতে পারে। কারণটা “আমার রিভিউ” পাতায় দেখা যায়।
- বদলাতে বলা বা বাতিল হওয়া রিভিউ ৩০ দিনের মধ্যে আবার জমা দেওয়া যায়।
রিভিউ নিয়ে অভিযোগ জানানো
সাইন ইন করা যে কেউ প্রকাশিত একটা রিভিউ নিয়ে একবার অভিযোগ জানাতে পারেন: গালাগাল, ঘৃণা, মিথ্যা বা মানহানির কথা, ব্যক্তিগত তথ্য, আসল অভিজ্ঞতা না, বা অন্য কারণ। কে অভিযোগ করেছেন, তা শুধু আমাদের স্টাফ দেখেন। নিজের প্রোফাইলের রিভিউ নিয়ে ডাক্তার বা হাসপাতাল অভিযোগ জানাতে পারেন না; তাঁদের জন্য নিচে লেখা আপত্তি জানানোর নিয়ম আছে।
একটা রিভিউ নিয়ে কয়েকজন আলাদা মানুষ অভিযোগ করলে টিম সেটা দ্রুত দেখে। কখনো রিভিউ কিছুদিনের জন্য লুকানো থাকে, কখনো থাকে না। যেমন মিথ্যা বা মানহানির অভিযোগ এলে টিম সিদ্ধান্ত না নেওয়া পর্যন্ত রিভিউটা “দেখা হচ্ছে” লেখাসহ সবার সামনে থাকে। ব্যক্তিগত তথ্যের অভিযোগ আমরা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দেখার চেষ্টা করি। খারাপ উদ্দেশ্যে বারবার অভিযোগ করাও নিয়ম ভাঙা হিসেবে ধরা হতে পারে।
রিভিউ কখন সরানো হয়
কারণ লিখে রেখে তবেই টিম কোনো প্রকাশিত রিভিউ সরায়: রিভিউটা ভুল, বেআইনি, কারও জন্য বিপজ্জনক রকমের ব্যক্তিগত, বা আইনে সরাতে বলা হয়েছে। টাকা দিয়ে বা অনুরোধ করে সমালোচনা মুছিয়ে ফেলা যায় না।
সরানোর আগে অন্তত ৭ দিন আগে “আমার রিভিউ” পাতায় আপনাকে জানানো হয়। এই সময়ে লেখা বদলাতে বা নিজের কথা জানাতে পারেন। শুধু স্পষ্টভাবে বেআইনি লেখা বা ব্যক্তিগত তথ্য থাকলে আগে না জানিয়েই সঙ্গে সঙ্গে সরানো হয়, আর কারণটা তখনো লিখে রাখা হয়।
নিয়ম ভাঙলে কী হয়
আপনার কোনো রিভিউ সরাতে হলে, বা আপনার করা অভিযোগ খারাপ উদ্দেশ্যের বলে টিম নিশ্চিত হলে, আপনার অ্যাকাউন্টে নিয়ম ভাঙার একটি সতর্কতা যোগ হয়। প্রথমবার শুধু সতর্কবার্তা। দ্বিতীয়বার ১৫ দিন আর তৃতীয়বার ৩০ দিন রিভিউ দেওয়া বা অভিযোগ করা বন্ধ থাকে। চতুর্থবার অ্যাকাউন্ট স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়। সতর্কতা ১২ মাস পর মুছে যায়, আর ভুল হলে স্টাফ তা তুলে নিতে পারেন।
ব্যক্তিগত তথ্য বা বেআইনি লেখার জন্য রিভিউ সরানো হলে, টিম অনুমতি না দিলে ওই প্রোভাইডার নিয়ে আর রিভিউ দেওয়া যায় না। মিথ্যা বা মানহানির কারণে সরানো হলে ওই প্রোভাইডার নিয়ে শুধু অন্য কোনো মাসের অভিজ্ঞতার রিভিউ দেওয়া যায়।
প্রোভাইডারের উত্তর আর আপত্তি
- ক্লেইম করা প্রোভাইডার প্রতিটা রিভিউতে একটা প্রকাশ্য উত্তর দিতে আর পরে তা বদলাতে পারেন; আগের সংস্করণগুলো রেকর্ডে থাকে।
- ক্লেইম করা প্রোভাইডার কোনো রিভিউ নিয়ে আপত্তি জানাতে পারেন। টিম সিদ্ধান্ত নেওয়া পর্যন্ত রিভিউটা “আপত্তি জানানো হয়েছে” লেখা আর প্রোভাইডারের বক্তব্যসহ দেখা যায়।
- সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে একবার আপিল করা যায়, যা দেখেন অন্য একজন স্টাফ। এরপর আবার আপিল করতে হলে সত্যিকারের নতুন প্রমাণ লাগে।
- রিভিউ লেখক টিমকে আলাদা করে নিজের কথা জানাতে পারেন, কিন্তু প্রোভাইডারের সঙ্গে সরাসরি না।
প্রোফাইল ক্লেইম
প্রথম পর্যায়ে প্রোফাইল ক্লেইম করা বিনামূল্যে। টিম প্রোভাইডারের পরিচয় আর বিএমডিসি রেজিস্ট্রেশন বা লাইসেন্স মিলিয়ে দেখে, সাধারণত ৭ কর্মদিবসের মধ্যে। ক্লেইম করলে রেটিং বা রিভিউ বদলায় না, আর “ক্লেইম করা” লেবেল চিকিৎসার মানের রেটিং না।
এটা চিকিৎসা-পরামর্শ না
প্যাপেল রোগীদের জানানো অভিজ্ঞতা তুলে ধরে। এটা কোনো চিকিৎসা-পরামর্শ দেয় না, ডাক্তারের দক্ষতাও মাপে না। নিজের চিকিৎসার সিদ্ধান্ত আপনার আর আপনার ডাক্তারের। জরুরি অবস্থায় প্যাপেলে খোঁজ না করে সরাসরি ডাক্তারের কাছে বা হাসপাতালে যান।
আমরা যা নিশ্চিত করতে পারি না
রিভিউ যিনি লিখেছেন, সেটা তাঁর নিজের মত। প্রতিটা কথা যে সত্য, তার নিশ্চয়তা আমরা দিতে পারি না; সাইট যে সবসময় বিনা বাধায় চলবে, সেটাও না। দায়-দায়িত্বের আইনি সীমাসহ পুরো নিয়ম আইনজীবী দেখে দেওয়ার পর যোগ করা হবে। এই লেখাটা এখনো খসড়া, আর এটা আইনি পরামর্শ না।
যোগাযোগ
প্রশ্ন বা অভিযোগ: rashed.mamun303@gmail.com। ইমেইলে প্রেসক্রিপশন, রিপোর্ট বা পরিচয়পত্র পাঠাবেন না।